ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঘোষাইল-রাজাপুর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ঘোষাইল রাজাপুরের সজিবুরের ঢাল থেকে আদম আলীর বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে সড়কটি চলাচলের প্রায় সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে তাদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দিনের বেলায় দু-একটি অটোরিকশা পাওয়া গেলেও সন্ধ্যার পর এ পথে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রাতের বেলায় কেউ অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ঘোষাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ মোল্লা বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। বৃষ্টি হলে কাদা-পানির কারণে তাদের চলাচলে অনেক সমস্যা হয়। অনেক সময় পোশাক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা সড়কটি এড়িয়ে অন্য পথ ব্যবহার করে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।”
রাজাপুর জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, “সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে রাতে কোনো রোগীকে নিয়ে বের হলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। জরুরি প্রয়োজনে অটোরিকশাও পাওয়া যায় না। মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ খান বলেন, “বৃষ্টি হলে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে যায়। কাদা ও পানি জমে থাকে। ছোট-বড় সবাইকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”
আরেক বাসিন্দা খেন্দ বিশ্বাস বলেন, “সড়কটি ভালো থাকলে এলাকার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হতো। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। অটোরিকশা চলাচলের সময়ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দ্রুত সংস্কার করে মানুষের দুর্ভোগ কমানো প্রয়োজন।”
গৃহবধূ রিনা আক্তার বলেন, “বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে প্রতিদিন চিন্তায় থাকতে হয়। বৃষ্টির দিনে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। মেয়েদের ও বয়স্কদের চলাচলেও অনেক সমস্যা হয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানাই।”
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হলে ঘোষাইল-রাজাপুর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
মন্তব্য করুন