বাংলাদেশ চলচিত্রে নিয়মিত অভিনয় করাসহ তামিলনাড়ু সিনেমায় অভিনয় করতে চায় বিল্লাল মাহমুদ। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে অভিনয় করে আসা উদীয়মান এই অভিনেতা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের বড় ও ছোট পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয়তাও পেয়েছে বেশ।
বলছি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের শেখ মোহাম্মদ আলী ও মনোয়ারা বেগম দম্পতির ছেলে বিল্লাল মাহমুদের কথা।
বাংলাদেশ চলচিত্রের নায়ক মান্নার অভিনয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোটবেলা থেকেই বাংলাদেশের নামকরা একজন বড় অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন তার। ছোটবেলা থেকে নিজে নিজেই অভিনয়ের চর্চা করে আসছেন এই যুবক। অভিনয়ের শুরু সেই ২০১৫ সালে। বাংলাদেশ চলচিত্রে সিনেমা দিয়েই অভিনয়ে আসা তার।
এনায়েত নামের ঢাকার এক ভাই অভিনয়ের জন্য তাকে প্রথমে অভিনেতা হিমেল রাজের কাছে নিয়ে যায়। সেসময় হিমেল রাজই তাকে পথে পথে যুদ্ধ সিনেমায় প্রথমে অভিনয়ের সুযোগ করে দেয়। সিনেমাটি রিলিজ না হওয়ায় তবুও থেমে থাকেননি বিল্লাল মাহমুদ।
পর্যায়ক্রমে অভিনয় করেছেন দুটি সিনেমাসহ বেশ কয়েকটি নাটক, ওয়েবসিরিজ, টেলিফিল্ম ও শর্টফিল্মে। এতেই অভিনয় জগতের অনেকের সঙ্গেই পরিচয় হয় তার। প্রিয়বাংলা নিউজ২৪-এর প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
বিল্লাল মাহমুদ প্রিয়বাংলা নিউজ২৪-কে বলেন, অভিনয়ের সময় অবসর পেলেই শুটিং সেটে গিয়ে দেখতাম কিভাবে ডিরেকশন দেয় ও শুটিং করে। এভাবে দেখতে দেখতে একটা সময় ঢাকায় অভিনয় করা বাদ দিয়ে নিজেই ছোট ছোট গল্প লিখা শুরু করলাম। ইউটিউবে নিজের নামে একটি চ্যানেল খুলে সেখানে ছোট ছোট জনসচেতনতা ও শিক্ষামূলক ভিডিও বানিয়ে আপলোড দেয়া শুরু করলেন তিনি।
ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ টিম তৈরি করার দুই বছর পর সেটিও ভেঙে গেলো। রয়ে গেলো শুধু বিল্লাল মাহমুদ ও তার নামের ইউটিউব চ্যানেলটি। পরবর্তীতে সে ফেসবুক পেইজে তার নামে একটি পেইজ খোলে সেখানে জনসচেতনা ও শিক্ষামূলক ছোট ছোট ভিডিও বানিয়ে আপলোড দেন তিনি। যার ফলোয়ারস এখন এক লাখ ৭২ হাজার।
বিল্লাল মাহমুদের এখন একটাই স্বপ্ন জাত অভিনেতা হতে হবে। এই চিন্তায় ফের ঢাকায় অভিনয়ের কাজ শুরু করেন তিনি। ইতোমধ্যে তার অভিনীত ইনসাফ ও মধ্যবিত্ত সিনেমা দুটি মুক্তি পেয়েছে। এছাড়া তার অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে পিছুটান, অভিমান, স্কুল গ্যাং, পিছুডাক, পরিবার, বাঘের ডেরা, ক্রান্তি ও তাকদীর উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া নিজে পরিচালক হয়ে তার ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেইজে ইতোমধ্যে তিনি প্রকাশ করেছেন কিশোর গ্যাং , অত্যাচার, জুলুম, মা ও নেশাসহ জনসচেতনা ও শিক্ষামূলক তার অভিনীত অসংখ্য শর্টফিল্ম।
বিল্লাল মাহমুদ বলেন, ভাইরাল হতে চাইলে অনেক আগে অনেক ভাবেই ভাইরাল হতে পারতাম। আমি খারাপ কিছু করে ভাইরাল হতে চাই না। নিজের ভালো ভালো কাজ দিয়ে ধীরে ধীরে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে চাই। যাতে মানুষ সম্মান দেয়াসহ আজীবন মনে রাখে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা মনে রাখবেন ভাইরাল জিনিস মার্কেটে বেশি দিন থাকে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমি অভিনয়ের জগতে হিরো বা ভিলেন হতে আসিনি এসেছি অভিনেতা হতে। গল্প ভালো হলে আর ক্যারেক্টার পছন্দ হলে হিরো ভিলেন বুঝি না চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি।
বিল্লাল মাহমুদ বলেন, ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম ভাই কিন্তু হিরো না, চঞ্চল চৌধুরী ভাই কিন্তু হিরো না। তারপরও তাদের জনপ্রিয়তা কিন্তু অনেক উর্ধ্বে। হুমায়ূন ফরিদী ভাই কিন্তু তার অভিনয় দিয়ে ভিলেনসহ প্রায় সব চরিত্রের জন্যই বেষ্ট ছিলো। তেমনি অভিনয়ের মাধ্যমে তিনিও বাংলাদেশের একজন নামকরা অভিনেতা হতে চান।
তিনি বলেন, সবাই যেখানে হিরো হতে চায়, সেখানে মূলত নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করতেই অনেক বেশি পছন্দ তার। চেহারা ও বেশভূষায় বিল্লাল মাহমুদকে অনেকটা তামিলনাড়ু সিনেমার ভিলেনের মতোই লাগে। এজন্য অনেকেই তাকে তামিল ভিলেন বলে ডাকে। এ ডাক শুনতে তারও যেমন ভীষণ ভালো লাগে, তেমনি বাংলাদেশ চলচিত্রে নিয়মিত অভিনয় করাসহ জীবনে সুযোগ পেলে তামিলনাড়ু সিনেমায় অভিনয় করার ইচ্ছে তার।এজন্য সুযোগ ও সময় পেলেই প্রচুর তামিল মুভি দেখেন তিনি।
এছাড়া বাংলাদেশ চলচিত্রে ইয়াং ভিলেনের সংখ্যা খুব কম থাকায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশ চলচিত্রে নেগেটিভ চরিত্রেই নিয়মিত অভিনয় করার ইচ্ছে তার। মূলত ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করতেই বেশি পছন্দ তার।
বিল্লাল মাহমুদ বলেন, অভিনয় দেখে মানুষ যখন তাকে ভয় পায় তখন তার কাছে খুব ভালো লাগে। তার কাছে মনে হয় সে তার চরিত্র অভিনয়ের মাধ্যমে খুব সুন্দর ও ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে। পর্দায় বিল্লাল মাহমুদ খুবই ভয়ংকর কিন্তু বাস্তবে একজন সহজ সরল চরিত্র।
দূরদূরান্ত থেকে অনেক ভক্ত তাদের প্রিয় এই অভিনেতাকে সামনাসামনি একনজর দেখতে ও সাক্ষাৎ করতে প্রায়ই আসছে দোহারে। কেউ কেউ সৌজন্য সাক্ষাৎ করার পাশাপাশি গল্প করছে, ভিডিও করছে। আবার কেউ বা প্রিয় অভিনেতার সঙ্গে সেলফি তুলে সংরক্ষণ করে নিয়ে যাচ্ছে।
অভিনেতার বাহিরে তার আরেকটি আলাদা পরিচয় রয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে তিনি এ পেশার সঙ্গে জড়িত। সেটি হলো সে একজন সাংবাদিক। ক্যামেরা চালাতে পারদর্শী প্রিয়বাংলা নিউজ২৪-এর একজন স্টাফ রিপোর্টার সে। আর যার হাত ধরে আজ তিনি এ অবস্থানে এসেছেন তিনি আর কেউ নন প্রিয়বাংলা নিউজ২৪-এর সম্পাদক অমিতাভ অপু। বিল্লাল মাহমুদের জীবনে তার ভূমিকা এক কথায় অপরিসীম। প্রিয়বাংলা নিউজ২৪-এ অসংখ্য ভিডিও প্রতিবেদনের ভিডিও তার হাত দিয়েই করা। এছাড়াও প্রিয়বাংলা নিউজ২৪-এ অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তার।
তবুও এখনও নিজেকে কিছুই মনে করেন এ উদীয়মান অভিনেতা। অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে নিয়ে যেতে চান অনেক উঁচুতে। নিজের স্বপ্নগুলোকে পূরণ করতে ও বাস্তবে রূপ দিতে বাংলাদেশের নামকরা একজন বড় অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন তার। এজন্য সকলের দোয়া ও ভালোবাসা চেয়েছেন বিল্লাল মাহমুদ।
এজেডএস সুমন
প্রিয়বাংলা নিউজ২৪
মন্তব্য করুন