আশফাক আমাকে বালুর লাইসেন্স করে দিয়েছে।‘তোর কি ? তোর বাড়ি কোথায় । তুই কি সাংবাদিক খালি এটা বল” আমার সামনে আয় কুত্তার বাচ্চা। এভাবে এক যুবককে হুমকি দেয়া অবৈধ বালু ব্যবসায়ীকে অবশেষে এমপির নির্দেশে গ্রেপ্তার করেছে দোহার থানা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে বিলাশপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানায়, গত শনিবার দুপুরে দোহারের বিলাশপুর এলাকার রাধানগরে রাস্তা আটকে বালুর পাইপ দেয়ার কারণে পথচারী সাজন মিয়া যেতে বাধাগ্রস্ত হলে পাইপ সরিয়ে দেয়। এসময় সে কিছু পাইপ কেটেও ফেলে। এঅবস্থা দেখে বালু ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন ওই যুবকের মুঠোফোনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালিজ করে হুমকি দিয়ে বলে এমপি আশফাক তাঁকে লাইসেন্স করে দিয়েছে বালুর ব্যবসা করতে। তুই আমার সামনে আয় কুত্তার বাচ্চা। এ অডিও বার্তাটি যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে ঢাকা-১ আসনের এমপি খন্দকার আবু আশফাকের নজরে আসে। এসময় তিনি দোহার থানার ওসিকে নির্দেশ দেন বিল্লাল তাকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে দোহার থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম রাধানগর এলাকা থেকে বিল্লালকে গ্রেপ্তার করে।
এসময় বিল্লাল গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি ভুল করেছেন। তিনি এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে অপরাধ করার কারণে সবার কাছে ক্ষমা চান। এটা আসলেই অবৈধ ব্যবসা। এমপি তাকে চিনেন না। তিনি বিএনপির একজন সাধারণ সমর্থক বলে দাবি করেন। ২৯ বছর সৌদি আরবে ছিলেন।
এ বিষয়ে ঢাকা-১ (দোহার নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসার বিষয়ে একাধিকবার তিনি অভিযান করিয়েছেন। তবে যে ব্যক্তি তাঁকে জড়িয়ে এসব কথা বলেছেন সে দলীয় কোনো নেতাকর্মী নয়। তাঁর নাম ভাঙ্গানোর কারণে ওসিকে গ্রেপ্তার করে আইনী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দোহারের পদ্মাপাড় জুড়ে মানুষের ক্ষতি করে যারাই বালু ব্যবসায় জড়িত তাদেরকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এমপি স্যারের নাম বাঙ্গিয়ে বালু ব্যবসা ও যুবককে হুমকি দেয়ার ঘটনায় জড়িত বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।