PRIYOBANGLANEWS24
৮ এপ্রিল ২০২৩, ৬:০৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নবাবগঞ্জে পহেলা বৈশাখ রাঙাতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে নির্ঘুম ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার মৃৎশিল্পীরা। সারা বছর অনেকটা অলস সময় পার করলেও এ সময় দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। ফলে তারাও সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন এই একটা উৎসবের।

নববর্ষ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসে বর্ষবরণ মেলা। সেই মেলায় চাহিদা থাকে নানা রকমের খেলনা, মাটির জিনিসপত্রের। তাই মৃৎশিল্পীরা নিজের হাতে নিপুণ কারুকাজে মাটি দিয়ে তৈরি করেন শিশুদের জন্য রকমারি পুতুল, ফুলদানি, রকমারি ফল, হাঁড়ি, কড়াই, ব্যাংক, বাসন, থালা, বাটি, হাতি, ঘোড়া, কলস, ঘটি, চুলা ও ফুলের টবসহ বিভিন্ন মাটির জিনিসপত্র।

বাপ-দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতে এখন কেউ কেউ এ পেশার সঙ্গে জড়িত। বেচাকেনা কম বিধায় অনেকেই এ কাজ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। অনেকেই তাদের ছেলে-মেয়েকে এ পেশায় আনতে নিরুৎসাহিত করছে। আর এর মূল কারণ বেচা-বিক্রি কম। মানুষ এখন মাটির তৈরি জিনিসের চেয়ে মেলামাইন, প্লাস্টিককে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।

জানা গেছে, নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নের খানেপুর ও জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সোনাবাজু গ্রামের পালবাড়িসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মৃৎশিল্প ছিল। মৃৎশিল্পীরা মাটির হাঁড়ি-পাতিল, বাসন-কোসন, ঢাকনা, কলসি, ছোট বাচ্চাদের খেলনা সামগ্রী, পেয়ালা তৈরি করতেন। তাদের তৈরি পুতুল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে নানা প্রতিকূলতা ও অভাব অনটনের কারণে সোনাবাজু গ্রামের পালবাড়ির মৃৎশিল্পীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী বাপ-দাদার আদি পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সোনাবাজু গ্রামের স্বপ্না রানী পাল বলেন, ‘আমাদের পেশায় এখন আর আগের মতো ব্যস্ততা নেই। শুধুমাত্র বৈশাখ আসলেই আমাদের হাতে কিছুটা কাজ থাকে।’

একই এলাকার সুধীর পাল বলেন, ‘যদি জাত পেশা না হতো তাহলে অন্য কাজ করতাম। আমাদের এখানে প্রায় ২৫টি পরিবার এই কাজ করত, কিন্তু এখন ৮-৯টি পরিবার এই পেশার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। বাকিরা অন্য কাজ করছে।’

এখানকার মৃৎশিল্পীরা জানান, পারিবারিকভাবেই তারা পৈতৃক পেশা হিসেবে এই মাটির কাজ ধরে রেখেছে। পণ্যের রঙ ও নকশার কাজ নিজেরাই করে থাকে। খেলনা তৈরির জন্য মাঠ থেকে মাটি আনা, মাটি নরম করা, সাচ বসানো, চুলায় পোড়ানো, রোদে শুকানো, রঙ করাসহ প্রায় সব কাজই এখানকার নারীরা করেন।

তারা আরও বলেন, আমাদের সন্তানরা মাটির কাজ শিখতে চায় না। তারা অন্য পেশায় নিযুক্ত হচ্ছে। আমাদের খোঁজখবর কেউ নেয় না। পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণ পাওয়া গেলে খেলনা, শোপিসসহ অন্যান্য সৌখিন জিনিস তৈরি করে শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন মৃৎশিল্পীরা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিরাজগঞ্জে দৈনিক জবাবদিহির সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

নবাবগঞ্জে সেন্ট ইউফ্রেজীস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে শিক্ষামেলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

শরীয়তপুরে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর উপর হামলার প্রতিবাদে নবাবগঞ্জে মানববন্ধন

নবাবগঞ্জে আন্তঃস্কুল-কলেজ বিজ্ঞানমেলা ও শিক্ষা-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

নবাবগঞ্জে তিনদিন ব্যাপী ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন

ঈদুল আজহা: নবাবগঞ্জের বারুয়াখালি পশুর হাটে চলছে প্রস্তুতি

নবাবগঞ্জে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এমপি

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির নবাবগঞ্জ অঞ্চলে বার্ষিক সম্মেলন ও চেক হস্তান্তর

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: বেরোবি’র সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদকে কারাগারে প্রেরণ

দোহারের চৈতাবাতরে মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত

১০

নবাবগঞ্জে কিউডি পণ্যের প্রদর্শন ও প্রযুক্তিভিত্তিক মতবিনিময় সভা

১১

দোহারে বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের হানা, ৫৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট

১২

টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট: কাশিমপুরকে হারিয়ে নতুন বান্দুরা অরুণাচল সংঘ চ্যাম্পিয়ন

১৩

নবাবগঞ্জে বিএনপি নেতাকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

১৪

নবাবগঞ্জে বিএনপি নেতা ও তার শাশুড়িকে কুপিয়ে জখম

১৫

নবাবগঞ্জের পাঁচ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন, প্রায় ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি

১৬

আওয়ামী আমলের প্রভাব খাটানো ইউএনও আলমগীর এখন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের উপসচিব!

১৭

দোহারে ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি

১৮

দোহারে চার ডাকাত আটক, ধারালো অস্ত্র উদ্ধার

১৯

কবরস্থানে বসে মাদকের জলসা!

২০