আসাদুজ্জামান (সুমন), বিশেষ প্রতিবেদক
২৪ নভেম্বর ২০২৫, ৩:০৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

দুই কিডনি অকেজো, বাঁচতে চায় শাকিল

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের দীর্ঘগ্রাম গ্রামের ২৭ বছর বয়সী যুবক নাঈম আহমেদ শাকিল। এলাকার শান্ত শিষ্ট ও ভদ্র স্বভাবের শাকিল ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কখন যে মরণ অসুখ বাসা বেঁধেছে তার কিডনিতে। ২ বছর আগে যখন ধরা পড়ল তখন তার একটি কিডনি পুরোই নষ্ট, অন্যটা মাত্র ২০% সক্রিয় ছিল। সঠিক চিকিৎসার অভাবে বর্তমানে তার দুই কিডনি অকেজো হয়ে গেছে। ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে কোনোরকম বেঁচে আছে শাকিল। সে উপজেলার বারুয়াখালি ইউনিয়নের দীঘগ্রামের রাকিব হোসেন নান্নু ও সাহিদা বেগম দম্পতির ছেলে।

জানা যায়, অভাব অনটনের সংসারে বাবা মায়ের কষ্ট অনুভব করে জীবনের দুরন্তপনার পাট চুকিয়ে শাকিল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেই সংসারের হাল ধরতে চাকুরী নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন ঢাকার সাভারে। ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর ডেঙ্গু ও টায়ফয়েড জ¦রে আক্রান্ত হন তিনি। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ২৮ ডিসেম্বর তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। নবাবগঞ্জের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষার পর জানতে পারেন তার কিডনিতে সমস্যা। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে শাকিলকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবার। দেখানো হয় কিডনি বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ ইসমাইল হোসেনকে। তিনিও বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে শাকিলের দুটি কিডনিতেই গুরুতর সমস্যা পেয়ে তাকে ঢাকার শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ (পিজি) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে প্রায় আড়াইমাস ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় শাকিলকে। এছাড়াও শেষের দিকে দেওয়া হয় তিনটি ডায়ালাইসিস। এরপর থেকে টানা প্রায় এক বছর শাকিলকে সপ্তাহে দুটি ডায়ালাইসিস ও একটি ইনজেকশন এবং মাসে এক ব্যাগ রক্ত ও একটি ইনজেকশন দিতে হয়েছে। এছাড়াও নিয়ম করে সময়মতো ডাক্তার দেখানো, পরিক্ষা করানোসহ ঔষধ তো আছেই। এতে সে সময়ে মাসিক ব্যয় হতো প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এখন গেলো কয়েক মাস ধরে শাকিলকে বাঁচিয়ে রাখতে সপ্তাহে তিনটি ডায়ালাইসিস দেওয়া লাগছে। এছাড়াও অন্যান্য চিকিৎসা আগের মতোই করতে হচ্ছে। এতে সপ্তাহে চিকিৎসা ব্যয় হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। মাসিক ব্যয় হচ্ছে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

ছেলের চিকিৎসায় শাকিলের বাবা আজ সব হারিয়ে নিঃস্ব। ছয় শতাংশের সামান্য বসতবাড়ির মধ্যে একটি কাঁচা ঘর ছাড়া এখন তার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এছাড়াও ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক আগেই হারিয়েছেন ঢাকার প্রেসের চাকুরী। শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগী শাকিলকে বাঁচাতে এখন একটি কিডনির যেমন ভিষণ দরকার, তেমনি কিডনি প্রতিস্থাপন ও চিকিৎসার জন্য দরকার লাখ লাখ টাকা। যার কোনটিই তার অসহায় দরিদ্র বাবা-মায়ের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

যে পরিবারের সংসারই এখন চলছে অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে সেখানে নিয়মিত শাকিলের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াটা একবারেই অসম্ভব। এজন্য অসহায় এই পরিবারটি কোনো উপায় না পেয়ে শাকিলকে বাঁচাতে সরকার, বিত্তবান ও সাহায্যকারীসহ সকলের কাছে ্য সহযোগিতার জন্য আবেদন কওে দোয়া চেয়েছেন।

শাকিলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮৪৬৫২০১৭৪ এই নম্বরে। এছাড়াও শাকিলকে বাঁচাতে তার চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা পাঠাতে চাইলে তার মা সাহিদা বেগমের শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৪০২৫-১২১০০০-২৭৩৪৩ হিসাব নম্বরে আর্থিক অনুদান জমা দিতে পারেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নবাবগঞ্জে বিএনপি নেতা ও তার শাশুড়িকে কুপিয়ে জখম

নবাবগঞ্জের পাঁচ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন, প্রায় ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি

আওয়ামী আমলের প্রভাব খাটানো ইউএনও আলমগীর এখন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের উপসচিব!

দোহারে ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি

দোহারে চার ডাকাত আটক, ধারালো অস্ত্র উদ্ধার

কবরস্থানে বসে মাদকের জলসা!

নবাবগঞ্জে অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী উপহার

নবাবগঞ্জে কৃষি জমির মাটি কাটায় চারজনকে অর্থদণ্ড ও একজনকে কারাদণ্ড

বের হয়েছিলেন মোবাইলে কথা বলতে, লাশ মিলল বাড়ির পাশে!

নবাবগঞ্জে কৃষি জমির মাটি কাটার অপরাধে জরিমানা

১০

নবাবগঞ্জে ২২০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১, পলাতক ৩

১১

নবাবগঞ্জে বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত

১২

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর সঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়া হলো না অমিতের

১৩

এ যেন দোহার-নবাবগঞ্জের মেধাবীদের মিলনমেলা

১৪

দোহারে মাদক নিয়ে বিরোধে জেরে যুবককে কুপিয়ে জখম

১৫

স্ট্রোকে সব হারিয়ে দিশেহারা আক্কাস, পাশে দাঁড়াল সততা ফাউন্ডেশন

১৬

দোহারে পেশাদার তিন চোর গ্রেপ্তার

১৭

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২এর গ্রাহকের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া বোর্ড গঠনের উদ্যোগ, রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতের আবেদন

১৮

নবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় সবজি ব্যবসায়ী নিহত

১৯

এনএম নূরানী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট: নতুন বান্দুরা মুসলিম যুব সংঘ চ্যাম্পিয়ন

২০