PRIYOBANGLANEWS24
১৮ অগাস্ট ২০২২, ১২:৪২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে চলে সংসার

মাছ শিকারিদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান পিঁপড়ার ডিম। আর এই ডিম সংগ্রহের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রায় শতাধিক মানুষ। এসব ডিম সংগ্রহের পর তা বিক্রি করে যা উপার্জন হয়, তা দিয়েই চলে তাদের সংসার।

জানা যায়, সুবজে ঘেরা ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রচুর গাছ থাকায় পিঁপড়ার বাসা খুব সহজে হয়। বিশেষ করে বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর, বান্দুরা , নয়নশ্রী, যন্ত্রাইল, শোল্লা ও কৈলাইল ইউনিয়নের গ্রামগুলোর প্রায় শতাধিক মানুষ উপার্জনের পথ হিসেবে বেঁছে নিয়েছে পিঁপড়ার ডিম খোঁজাকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবাবগঞ্জ উপজেলার বাগমারা এলাকায় গড়ে উঠেছে মাছের খাদ্যের দোকান। সেখানে মাছ শিকারের জন্যই পিঁপড়ার ডিম বিক্রি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম হওয়ার এর চাহিদাও বেশ। প্রতিদিন সকাল থেকেই পিঁপড়ার ডিম কেনার জন্য দোকানগুলোতে ভীড় করছেন ক্রেতা।

ডিম সংগ্রহকারীরা জানান, তারা প্রতিদিন সকালে ৩-৪ জন করে একটি দল গ্রাম গঞ্জে পিঁপড়ার বাসা এবং ডিম খোঁজার কাজে বেরিয়ে পড়েন। যা চলে বিকেল পর্যন্ত। সংগ্রহ শেষে সন্ধ্যায় তা বিক্রি করেন। সেই টাকা দিয়ে চলছে তাদের সংসার।

তারা আরো জানান, সারাদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর ১-২ কেজি ডিম সংগ্রহ করা যায়। ভাগ্য ভালো ও আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ২-৪ কেজি পর্যন্ত পিঁপড়ার ডিম পাওয়া যায়। ঋতু অনুযায়ী সেই ডিম প্রতি কেজি ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি করেন তারা।

ডিম সংগ্রহকারী কলাকোপা ইউনিয়নের আমতলা গ্রামের রফিকুল বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে বের হয়ে একটানা বিকেল পর্যন্ত কাজ করি। এ সময়ে কোনোদিন এক কেজি, কোনোদিন দুই কেজি আবার এমন সময় আছে আধা কেজিরও কম পিঁপড়ার ডিম পাই। এসব ডিম বিক্রি করে যে টাকা পাই তা দিয়েই সংসারটা চলছে। আমার ইনকামের আর কোনো রাস্তা নেই। তাই এটাই করি। আগে মানুষ কম ছিল, তবে এখন ডিম সংগ্রহেও মানুষ বাড়ছে অনেক।’

মাইনউদ্দিন নামের এক ডিম সংগ্রহকারী বলেন, ‘বর্তমানে আমার কোনো কর্ম নাই। আগে মিস্ত্রি কাজ করতাম। এখন সেখানেও কাজ কম। তারপরও কষ্ট করে ছিলাম। কিন্তু এখন কাজই নেই আমি বেকার হয়ে পড়ি। তাই বাধ্য হয়েই পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহের কাজ করি, আর তা বিক্রি করেই আমার পরিবারে সংসার চলছে।’

আবুল কালাম নামে এক ডিম সংগ্রহকারী বলেন, ‘ডিম সংগ্রহ করি ঠিক আছে, তবে বেচার সময় দাম কম দেয়। যে টাকা পাই তা দিয়ে সংসার চলানো একটু কষ্ট হয়।’

ডিমের পাইকাররা জানান, সংগ্রহ করা ডিম কিনে দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন তারা।

ডিমের পাইকার রুবেল আহমেদ বলেন, ‘সারাদিন ডিম সংগ্রহ শেষে আমার কাছে বিক্রি করতে আনে, আমি সেই ডিম কেজি প্রতি ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা দরে কিনে নেয়। আবার সেই ডিম আমি বিভিন্ন দোকানে ৮শ’ টাকা থেকে এক হাজার টাকা দরে বিক্রি করি।’

ডিম ব্যবসায়ী আবু সিদ্দিক বলেন, ‘আমি বাগমারা, বান্দুরা ও মাঝিরকান্দার কয়েকজনের কাছে থেকে পিঁপড়ার ডিম পাইকারি মূল্যে কিনে রাখি। পরে মাছ শিকারি ও নবাবগঞ্জের মাছের খাদ্য বিক্রির বিভিন্ন দোকানে পাইকারি বিক্রি করি। অন্য ব্যবসার পাশাপাশি এ ব্যবসা থেকেও ভালো আয় হয়। আমি প্রতিদিন প্রায় ৫-১০ কেজি ডিম বিক্রি করি।’

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দোহারে পেশাদার তিন চোর গ্রেপ্তার

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২এর গ্রাহকের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া বোর্ড গঠনের উদ্যোগ, রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতের আবেদন

নবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় সবজি ব্যবসায়ী নিহত

এনএম নূরানী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট: নতুন বান্দুরা মুসলিম যুব সংঘ চ্যাম্পিয়ন

নবাবগঞ্জে কৃষকের মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা

নবাবগঞ্জে স্ত্রীর সহযোগিতায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, থানায় মামলা

নবাবগঞ্জে বলাকা টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

নবাবগঞ্জের মেলেং উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

কেরানীগঞ্জে সেনাবাহিনীর অভিযানে কুখ্যাত সন্ত্রাসী আরমান গ্রেপ্তার

নবাবগঞ্জে অমর একুশে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

১০

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবীতে নবাবগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি

১১

দোহারে ধানক্ষেতে মিলল যুবকের লাশ

১২

বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যান সংস্থার উদ্যোগে নবাবগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণা

১৩

নতুন বান্দুরায় প্রচারণায় ব্যস্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা

১৪

উচ্ছ্বাস-আনন্দে অনুষ্ঠিত হলো বান্দুরা হলিক্রস স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

১৫

নিখোঁজ মানসিক ভারসাম্যহীন সজিবের সন্ধান চায় পরিবার

১৬

কেরানীগঞ্জে অবৈধভাবে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি, তিনজনকে জরিমানা

১৭

কেরানীগঞ্জে ১২০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১৮

নবাবগঞ্জের বান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদে গণভোট সম্পর্কিত অবহিতকরণ সভা

১৯

জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস: খন্দকার আবু আশফাক

২০