ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় কৈলাইল ইউনিয়ন টেকনিক্যাল হাই স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বহিরাগতরা হামলা করে তেলেঙ্গা গ্রামের শিক্ষার্থীদের উপর। ঐ গ্রামের পড়ুয়া শতাধিক শিক্ষার্থীরা মনে করছেন স্কুলে গেলে পরে পুনরায় তাদের উপর হামলা হতে পারে এ আশঙ্কায় তারা গত বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করে এর সুষ্ঠু বিচার চান এবং ক্লাস বর্জনের ঘোষনা দেন।
এ দিকে শান্তির লক্ষ্যে কৈলাইল ইউনিয়ন টেকনিক্যাল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় গণমান্য ব্যাক্তিবর্গ এবং তেলেঙ্গা গ্রামের মুরব্বীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠকের পর তাদের অভিভাবকদের আশ্বস্ত করায় শনিবার ক্লাসে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা ।
গত বুধবার বিকেলে কৈলাইল ইউনিয়ন টেকনিক্যাল হাই স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল মাঠে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলার গোল কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয় এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এ সুযোগে বহিরাগত স্থানীয় ফতু ও মফি খেলার মাঠে এসে নবম শ্রেণীর ছাত্র আল-আমীনকে মারধর করে এবং তার বড় ভাই দশম শ্রেণীর ছাত্র মো. রাব্বিলের মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে বহিরাগতরা। পরে দিন শিক্ষার্থীরা স্কুলে গেলে পূণরায় হামলা হতে পারে এই আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা তাদের নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে বৃহস্পতিবার তারা তেলেঙ্গা এলাকায় মানববন্ধন করে এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের গ্রামের শিক্ষার্থীরা স্কুল বর্জনের ঘোষনা দেন।
এ ঘটনায় বুধবার সকালে আল-আমীনের মা ফুলমতি বাদী হয়ে ফতু ও মফির বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় লিথিত অভিযোগ করেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে কৈলাইল ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান বশির আহমেদের উপস্থিতিতে মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও আমিসহ স্কুলের শিক্ষকগণ বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং সভাপতি দেশের বাহিরে থাকায় মঙ্গলবার তার প্রতিনিধি হিসেবে ওয়ার্ড মেম্বার এপোলো ও তার চাচা কামাল হোসেন চৌধুরীসহ ঐ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে অভিভাবকদের সাথে বৈঠক করে নিরাপত্তার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়।
নবাবগঞ্জ থানা ডিউটি অফিসার পুলিশ উপ-পরিদর্শক সামিউল ইসলাম বলেন, মারামারির ঘটনায় ফুলমতি বাদী হয়ে এর আগে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। শনিবার সকালে অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য বাদী একটি লিখিত দিয়ে গেছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন