বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে এয়ারপোর্ট রোড টু ৩০০ ফিট কোন অভ্যর্থনা স্থল পর্যন্ত পুরো রাস্তা কিতা কর্মীদের নানা স্লোগানে মুখরিত ছিল। একদিন আগে বুধবার রাতেই ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানার কয়েক লক্ষাধিক নেতাকর্মীরা এয়ারপোর্ট রোডের নিকুঞ্জ টু সমাবেশস্থল রাস্তায় ভিড় জমায়। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীবাসীও তাদের সঙ্গে বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা যোগ দেন।
সকাল সাতটা বাজার আগেই রাস্তার একপাশে লাইন ধরে সুশৃংখলভাবে দাঁড়িয়ে যায় নেতাকর্মীরা। ঘন্টার পর ঘন্টা ক্লান্তিহীন ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত নেতাকর্মীদের।
সরজমিনে দেখা যায়, বুধবার দিবাগত রাত ১০ টা থেকে ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও ঢাকা – ১ আসনের বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাকের নেতৃত্বে হাজার হজার নেতাকর্মী এয়ারপোর্ট রোডে অবস্থান নেয়৷ তীব্র ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে নেতা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে খন্দকার আবু আশফাক প্রিয় নেতাকে বরন করতে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে একটু পর পরই মহড়া দিয়েছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্লোগানের তিনিননিজেও তাল মিলিয়েছেন। এ সময় ‘মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে’, ‘তারেক রহমান, বীরের বেশে, আসছে ফিরে বাংলাদেশে’, ‘তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ভোর হতে না হতেই ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে এখানে হাজার হাজার নেতা কর্মী নিয়ে উপস্থিত হয়।ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. সালাউদ্দিনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সাভার থেকে এসেছিল। আগত নেতাকর্মীদের হাতে লাল সবুজের পতাকা, গায়ে রং বেরং এর টি শার্ট এবং মাথায় বিভিন্ন রং এর ক্যাপ পরে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
বুধবার রাতে এখানে আসা বিএনপি কর্মী রায়আন ইসলাম রাজু বলেন, প্রিয় নেতাকে একটু দেখার জন্য রাতে তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেছি। রাতে ঘুমাতে না পেরে সকালে শরীরে কিছুটা ক্লান্তি আসে। তবে নেতাকে দেখতে পওয়ার বাসনার কথা মনে পড়ে নিমেষেই ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। স্কুল জীবনে প্রিয় নেতাকে দেখে রাজনীতি করার ইচ্ছা হয়। এবং তখন থেকেই ছাত্রলের রাজনীতিতে সক্রিয় হই। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তিনি এসেছেন বাংলাদেশে। আমরা মনে করি তারেক রহমানের নেতৃত্বই আগামীর বাংলাদেশ মাথা উচু করে দাঁড়াবে। নবাবগঞ্জ থানার নয়নশ্রী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মোল্লা বলেন, শুধুমাত্র প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন মুরুব্বী বয়সের নেতাকর্মীরাও আমাদের সঙ্গে এসেছেন। আবার দল করে না এমন অনেকেই আমাদের সঙ্গে আগের দিন রাতে এসেছেন। মধ্য রাত থেকে শুরু করে প্রায় সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেছেন । কিন্তু তারা কেউ বিরক্ত হননি। তাদের মোটিভেশন দেখে আমি নিজেই অবাক হয়েছি। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরেও তাদেরকে উচ্ছ্বাসিত দেখা গেছে।
ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক বলেন, বুধবার রাত থেকে স্বতস্ফুর্তভাবে ঢাকা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী নিয়ে এয়ারপোর্ট রোডে অবস্থান করেছি। আমাদের নেতা কর্মীরা সবাই প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে বরন করার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে কোন ক্লান্তি দেখতে পাইনি। নেতাকর্মীরা ব্যাপক উচ্ছ্বাসিত ছিল। দুপুরে বাংলাদেশের অভিভাবক তারেক রহমানকে দেখতে পেয়ে আমাদের দুদিনের ক্লান্তি কষ্ট দূর হয়ে গেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রিয় নেতার অপেক্ষায় ছিলাম। আজ আমাদের অপেক্ষার অবসান হয়েছে।
মধ্য দুপুরে দেখা যায়, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লাল-সবুজ বাসে বহন করে ধীরে ধীরে বিমানবন্দর থেকে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে তৈরি সংবর্ধনা মঞ্চের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় । এ সময় তিনি নেতাকর্মীদেরকে বুলেটপ্রুফ বাসের ভেতর থেকেই হাত নাড়িয়ে অভিবাদন জানান।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সংবাদ শোনার পর থেকেই লাখো নেতাকর্মী-সমর্থকের মাঝে সৃষ্টি হয় উচ্ছ্বাস আর আবেগঘন পরিস্থিতি। অনেকে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। নেতাকর্মীদের ভাষায়, আজকের দিনটি ছিল তাদের জন্য এক আবেগে ভরা দিন। তাদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি রাজনৈতিক অভিযান নয়, বরং একটি আস্থা ও পুনর্জাগরণের প্রতীক। তার ফিরে আসা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পথকে শক্তিশালী করবে এবং আগামী ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে দলের শক্তি আরও দৃঢ় করবে।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হতে টাঙ্গাইল থেকে গণসংবর্ধনায় এসেছেন মমিন মিয়া । আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আজকের দৃশ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। আজ তিনি ফিরে এসেছেন একটি নতুন প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে, নেতাকর্মীদের হৃদয়ে নতুন করে জীবন্ত হয়ে। এতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশ যেন নতুন আলোয় আলোকিত হয়েছে।
কথা হয় তাহলে তাহমিনা নামে এক স্কুল শিক্ষিকা সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি কোন দল করি না। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে অনেক পছন্দ করি। তাই আমি তাকে শুধুমাত্র একটু দেখার জন্য ও স্বাগত জানাতে এলাকার বিএনপি নেতা কর্মীদের সঙ্গে এসেছি।
মানিকগঞ্জ থেকে আসা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন বলেন, আমি কোনো রাজনীতি করি না। তবে রাজনৈতিক দলের ভালো কাজের প্রশংসা করি, খারাপ কাজের তীব্র সমালোচনা করি। বর্তমান সময়ে বিএনপি দলের কান্ডার হিসেবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রশংসনীয়। দেশে না থেকেও বিগত ১৭ বছর দলকে সুসংগঠিত করে রেখেছেন তিনি। এমন একজন নেতার আগমনে এমন লোক হয় তা দেখার জন্যই এসেছিলাম। তবে আমার ধারণা ছিল না গণসংবর্ধনায় এতো মানুষের সমাগম হবে। সংবর্ধনা অনেক সাধারণ মানুষও এসেছে।
ভোর হতে না হতেই ঢাকার বাড্ডা হয়ে কুড়িল বিশ্বরোড দিয়ে প্রায় অর্ধলক্ষ নেতা কর্মীদেরকে ঢাকা- ২ আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী আমানউল্লাহ আমান এর ছেলে ব্যারিস্টার অমির নেতৃত্বে গণসংবদনা স্থল ৩০০ ফিটের দিকে ছুটতে দেখা যায়। অত্যন্ত সুশৃংখল ভাবে লাইন ধরে র্যালি করে স্লোগান দিতে দিতে যেতে দেখা যায়। তাদের প্রত্যেকের মাথায় ছিল লাল সবুজের ক্যাপ পরিহিত, গায়ে ছিল তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত টি শার্ট। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকার পাশাপাশি দলীয় পতাকা। এ সময় অসাধারণ এক দৃশ্যের অবতারণা দেখা যায়।
মন্তব্য করুন