নির্বাচনী হাওয়া বইছে দেশ জুড়ে। প্রতিটি দলও ঘোষণা করেছে তাদের প্রার্থীর নাম। ঢাকা-১ আসনে (দোহার-নবাবগঞ্জ) বিএনপি মনোনয়ন দেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাককে। এরপর থেকেই রাত দিন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন তিনি। তবে এতদিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন প্রয়াত মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মেয়ে মেহনাজ মান্নান ও তার অনুসারীরা৷ অবশেষে মান্নান নিলুফার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও মেহনাজ মান্নানের আয়োজনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি ও নেক হায়াত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে উঠেন তারা। শনিবার দুপুরে মেহনাজ মান্নানের গোবিন্দপুর নিজ বাড়িতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আবু আশফাক বলেন, একটা কথা শোনা যায়, আমার আর মেহনাজের মধ্যে দূরত্ব রয়েছে। কিছু মানুষ কাঁদা ছুড়াছুড়ি করে এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। যারা গ্রুপিং তৈরি করতে চায় তারা দলের ক্ষতি করেছে। আসলে মেহনাজের সাথে কখনই আমার বিভেদ ছিল না। তবুও সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে ধানের শীষের মধ্যে কোন বিভেদ নেই।
তিনি আরো বলেন, প্রয়াত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও আ. মান্নান ভাই নিষ্ঠার সাথে ঢাকা জেলার দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ তারা নেই, তাদের পথ অনুসরণ করে আমি এখন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি। আমিও একদিন থাকব না। কথা দিচ্ছি আমি দায়িত্ব থাকাবস্থায় কোন অনিয়ম হতে দিব না, কোন নেতাকর্মীর সাথে বৈরী আচরণ করবো না। বর্তমানে পদপদবী নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে, এটা অস্বীকার করবো না। আগামীতে যে কমিটি হবে সেখানে যোগ্যতা অনুসারে যোগ্যদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হবে।
আবু আশফাক আরো বলেন, ইতিমধ্যে নির্বাচনী কমিটির খসড়া করা হয়েছে। আমি শুনেছি এ কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজনকে ঢুকানো হয়েছে। আমি নিজে সেগুলো যাচাই বাছাই করছি। কমিটিতে শুধু বিএনপির ত্যাগী নেতারাই জায়গা পাবে। ইনশাল্লাহ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে আমি আর মেহনাজ ভাই বোন মিলে দোহার নবাবগঞ্জের উন্নয়নে একসাথে কাজ করবো। এসময় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।
এসময় মেহনাজ মান্নান বলেন, জন্মলগ্ন থেকে শহীদ জিয়ার নামটি অন্তরে গেঁথে গিয়েছিল। সেই থেকে ধানের শীষই আমার সবকিছু। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাককে ধানের শীষের মনোনয়ন দিয়েছেন। তার সাথে আমি একাত্মতা প্রকাশ করে সবাইকে অনুরোধ করবো অতীতের সমস্ত বিভেদ ভুলে আমরা ধানের শীষের পক্ষে খন্দকার আবু আশফাকের হয়ে কাজ করবো। মনে রাখবেন পরিবারের মধ্যে ঝগড়া মনোমালিন্য হতেই পারে। দিনশেষে সবাই কিন্ত এক হয়ে যায়। বিএনপি একটি পরিবার সেখানেও কিছু ভুল বুঝাবুঝি ছিল। অতীতে আমাদের সবারই ভুল ছিল তাই সবাইকে অনুরোধ করবো সবাই সবার ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে একসাথে কাজ করবেন।
তিনি আরো বলেন, ১৮ বছর আপনারা অনেক কস্ট করেছেন। এবারের নির্বাচনও কঠিন হবে। মনে রাখবেন, বিগত দিনের কস্টের কথা মনে করে ধানের শীষের প্রার্থীকে পাশ করালেই আমরা সবাই শান্তিতে থাকতে পারবো। এসময় আবু আশফাককে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে সংসদে পাঠাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান তিনি।
এসময় নেতাকর্মীদের উৎফুল্ল দেখা যায়। উপস্থিত একাধিক নেতাকর্মী বলেন, ঐক্যের খুব প্রয়োজন ছিল। আল্লাহর অশেষ রহমত মনোমালিন্য দূর হয়ে গেছে। আশফাক আর মেহনাজ একসাথে কাজ করলে ঢাকা-১ আসনে বিএনপির জয় কেউ ঠেকাতে পারবেন না ইনশাআল্লাহ।
উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এস এম মিজানুর রহমান রাজসহ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।