ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা মাঝপাড়া গ্রামটিকে বিভক্ত করেছে নোয়াবাড়ি একটি খাল। মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে দেড় যুগ আগে সেখানে শুরু হয় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন তৎকালিন বিএনপির সরকার। তবে সরকার বদলের সাথে সাথে থেমে যায় সেতুর কাজ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মাঝপাড়াসহ প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ। বাধ্য হয়ে সেতু পাশেই ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে পাড়াপাড় হতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ২০০৫ সালে বিএনপির সরকারের শেষ দিকে সেতুটির নির্মাণ করা শুরু হয়। দ্রæত সেতুর পিলারগুলোর কাজ শেষ হওয়ায় দুর্ভোগ লাগবের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। তবে এরপর তত্বাবধায়ক সরকার এলে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার একাধিকবার ক্ষমতায় থাকলেও সেতুটির কাজ শেষ করেনি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মাঝপাড়ার বাসিন্দাদের পাশাপাশি বটতলা, কাজীহাটি,লস্করহাটি, তেতুলতলা, মাইলাইল, তেলেঙ্গা, কৈলাইলসহ আশেপাশের ১০ গ্রামের বাসিন্দারা। এছাড়া স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী শিক্ষিকার্থীদেও প্রতিনিয়ন যাতায়াত করতে হচ্ছে ভাঙাচূড়া বাঁশের সাঁকো দিয়ে।
মাঝপাড়ার বাসিন্দা আমিনুর ইসলাম বলেন, সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা মনে করেছিলাম যাতায়াত অবস্থা ভাল হবে। কিন্ত সেতু না হওয়ায় আমরা রয়েছি চরম বিপদে। বিশেষ করে কেউ অসুস্থ হলে ভাঙা সেতু দিয়ে ডাক্তারের কাছে নিতে বেগ পেতে হয়। এছাড়া আমাদের এলাকায় প্রচুর কৃষি পণ্য উৎপাদন হয়। যাতায়াত ব্যবস্থার কারনে কৃষকরা পণ্যগুলো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।
আশা বেগম নামে এক বৃদ্ধ বলেন, যুদ্ধের পর সারাদেশের উন্নয়ন হলে ৫০/৫৫ বছরেও আমাদের এলাকার কোন উন্নয়ন হয়নি। সেতুর কাজ শুরু করলো কিন্ত শেষ করলো না। রাস্তার অবস্থাও ভাল না। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া যায় না। রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারনেই গাড়িও পাওয়া যায় না সহজে।
অনিতা নামে আরেক গৃহবধূ বলেন, আমাদের অনেক কস্ট। হাটবাজারে যেতে পারি না, পুলাপান স্কুলে যেতে পারে না। বৃষ্টি হলে তো রাস্তায় চলাচলও করা যায় না। এছাড়া বাঁশের সাঁকো দিয়ে পাড়াপাড়ের করতে গিয়ে অনেকে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে।
মেঘলাল নামে এক কৃষক জানান, ভাই কিছু বলার নাই। জমিতে যা ফসল ফলাই তার ন্যায্য দাম পাই না। কারন বাজারে ফসল নিতে পারি না। বিএনপির সময় সেতুর কাজটা যখন আরম্ভ রইল তখন আমরা খুশি হইছিলাম। কিন্ত বিএনপিও চলে গেল আর কাজও হইল না। আমার দুঃখ কেউ দেখার নাই।
হুমায়ন হোসেন নামে ব্যবসায়ী বলেন, সেতুর কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানও সরজমিনে এসে সেতুর কাজ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্ত তিনিও কথা রাখেনি। এরপর সালমা ইসলাম, সালমান এফ রহমান এমপি হলেও আমাদের সেতুটির কাজ আর হয়নি। সামনে নির্বাচন দেখা যাক নতুন এমপি আমাদের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন কি না।
আগলা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আলতাব হোসেন বলেন, এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন ভোর হতে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। ছোট ছোট শিশুরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পাড়াপাড় হতে গিয়ে র্দুঘটনার শিকার হচ্ছে। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর কাজ শুরু হলেও শেষ করার আগেই সরকার পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কেউ সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি। আমরা আশা করি সরকার সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নিবে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল করিম বলেন, এব্যাপারে তিনি অবগত নন। এখনই জানতে পারলাম, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে।
মন্তব্য করুন