ঢাকার নবাবগঞ্জের ইছামতি নদীতে স্লইচগেট স্থাপনের করে নদীকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নির্দেশে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কর্মকর্তা ইছামতি নদীর সোনাবাজু অংশ পরিদর্শন করলেন। মঙ্গলবার দুপুরে বেড়িবাঁধের কোন অংশে সুইচগেট স্থাপন করা যায় সে বিষয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা বিভাগের
উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন ও কালি কিংকর সাহা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টোর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক মোশতাক আহমেদ, এসএম ইব্রাহিম, শরিফুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম ও মো. শরিফ মিয়াসহ নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শন শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন বলেন, ইছামতি নদীর জলাবদ্ধতা দূর করতে হলে স্লুইচগেট স্থাপনের বিকল্প নেই। আমরা মাননীয় পরিবেশ উপদেষ্টার নির্দেশক্রমে আজ নদীটি পরিদর্শন করলাম। ইছামতি নদীর এই দুরবস্থা থেকে রক্ষা করতে বেরিবাঁধে স্লুইচগেট স্থাপনসহ প্রয়োজনে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আমরা কাজ করছি। কাজটি আরো দ্রুত করার জন্য আমরা একটি রিপোর্ট পেশ করব। আশা করি দ্রুততম সময় এখানে স্লুইচগেট স্থাপন করা হবে।
এ বিষয়ে নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ইছামতি নদীর সোনাবাজু বেড়িবাঁধে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্লুইচগেট স্থাপনের জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টোর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম, নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি, ইছামতি বাঁচাও আন্দোলন ও স্থানীয় এলাকাবাসী নানা কর্মসূচি পালন করেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপিও দিয়েছি। এরই পরিপেক্ষিতে ২০১৭ সালের দিকে ঢাকা বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তাবিত একটা বাজেট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। কিন্তু আজও তা আলোর মুখ দেখেনি। অবশেষে আজ পরিবেশ উপদেষ্টার নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কর্মকর্তা ইছামতি নদী পরিদর্শন করলেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাশিম মোল্লা বছরব্যাপী সামাজিক নানা ইস্যুতে কাজ করছেন। ইছামতি নদীকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনা, প্রাম বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য নৌকাবাইচ টিকিয়ে রাখা যেন তারই কাজ। কখনো এলাকার স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে আবার কখনও একাই ইছামতি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে যান। এছাড়া নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ইছামতি নদীর বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরেন জাতীয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক মাধ্যমে। জেলা, উপজেলা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। তারপরেও তিনি হাল ছাড়েননি। ইছামতি নদীর এই দুর্দশা থেকে রক্ষা করতে ইছামতি বাঁচাও আন্দোলন সহ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু না হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে অনেকটা হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তবে হাল ছাড়েনি রাশিম মোল্লা। এখনো কাজ করে যাচ্ছেন এ সংগঠক।
মন্তব্য করুন