PRIYOBANGLANEWS24
১৭ জুলাই ২০২১, ৫:৪৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ব্যস্ততা নেই কামারশালায়

আর মাত্র কয়েক দিন বাকি ঈদুল আজহা। তবে ঈদকে সামনে রেখে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জের কামারশালায় নেই কোনো ব্যস্ততা। ক্রেতাদেরও তেমন কোন ভিড় দেখা যায়নি। কোরবানির ঈদে কামারদের দম ফেলানোর সময় থাকতো না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কামারশালাগুলোতে টুংটাং শব্দ লেগেই থাকতো। তবে করোনা কারনে বর্তমান চিত্র পুরো ভিন্ন। দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে অলস। দোকান খোলা রাখলেও ক্রেতা নেই।

দুই উপজেলার বিভিন্ন কামারশালা ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো ব্যস্ততা নেই কামারদের। লকডাউন শিথিল করায় কয়েকটি কামারশালা খোলা থাকলেও, কাজ নেই । তবে স্বাভাবিক পরিবেশে এক মাস আগে থেকেই কামারশালায় হাতিয়ার বানানোর কাজ শুরু হতো। কামারশালার পাশ দিয়ে গেলেই শোনা যেত টুংটাং আর লোহা গরম করা ভাতির শব্দ।

নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর, বান্দুরা এবং দোহার উপজেলার জয়পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো কামারদের ব্যস্ততা নেই। কয়েকটি কামারশালা খোলা থাকলেও তাদের হাতে তেমন কোনো কাজ নেই। ঈদকে ঘিরে আগের মতো তাদের বাড়তি প্রস্তুতিও নেই। সহযোগিদের নিয়ে দিনভর দোকানে বসে আছেন অথচ কাঙ্খিত বিক্রি নেই। একসময় কোরবানির ঈদের আগে ৪/৫ জন লোক নিয়ে কাজ করতে হতো কামার পল্লী জুড়ে।

বারুয়াখালী বাজারের বিশ্বনাথ কর্মকার নামের এক দোকানী জানান, আগে কোরবানী ঈদ আসলেই কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যেত। কিন্তু এ বছর ব্যবসার সময়টায় লকডাউন। তাই এবার সে পরিমানে হাতে কাজ নেই। বিক্রির আশায় অনেক মালামাল বানিয়ে রেখেছি। এগুলো বিক্রি করতে না পারলে ঋণগ্রস্থ হয়ে পরবো।

একই বাজারের যতিন্দ্র কর্মকার নামে আরেক দোকানী বলেন, কোরবানি ঈদের একমাস আগে থেকেই দা, ছুরি, বটি, চাপাতিসহ নানা ধরনের হাতিয়ার তৈরির কাজ শুরু হতো। পাশাপাশি থাকতো পুরাতন হাতিয়ারের মেরামতের কাজ। সব মিলিয়ে প্রায় লাখ টাকার বেচাবিক্রি হতো কিন্তু লকডাউনের কারণে সব শেষ। এইবার তো কাজে কোনো ব্যস্ততা নেই। ঈদের কয়দিন বাকি থাকলেও এখনো কাজের চাপ বাড়েনি। আগে প্রায় ১ মাস জুড়ে কাজ করতাম দিন রাত। খাওয়ার সময়টুকুও পাইতাম না।

তাপস কর্মকার বলেন, আগে এই সময়ে কামারশালার সামনে বিক্রি করার জন্য সাজানো থাকতো কোরবানি করার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। বিক্রি শুরু হতো কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই। এবার ঈদ ঘনিয়ে এলেও বেচাবিক্রি নেই। দুই সপ্তাহ গেল লকডাউন। লকডাউনের পর দুইদিন ধরে দোকান খুলছি। বলতে গেলে ক্রেতাও নেই।

ব্রাহ্মণখালী এলাকার অমূল্য কর্মকার জানান, ঈদের মাসখানেক আগ থেকেই কাজের ব্যস্ততা বাড়তো। প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দুই হাজার টাকার কাজ করতে পারতাম। এবার লকডাউনের কারণে কাজ নেই বললেই চলে। তিনি আরো বলেন, নতুন হাতিয়ার বিক্রি নেই বললেই চলে। পুরাতন হাতিয়ারে শান দেয়াও কমে গেছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দোহারে পেশাদার তিন চোর গ্রেপ্তার

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২এর গ্রাহকের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া বোর্ড গঠনের উদ্যোগ, রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতের আবেদন

নবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় সবজি ব্যবসায়ী নিহত

এনএম নূরানী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট: নতুন বান্দুরা মুসলিম যুব সংঘ চ্যাম্পিয়ন

নবাবগঞ্জে কৃষকের মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা

নবাবগঞ্জে স্ত্রীর সহযোগিতায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, থানায় মামলা

নবাবগঞ্জে বলাকা টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

নবাবগঞ্জের মেলেং উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

কেরানীগঞ্জে সেনাবাহিনীর অভিযানে কুখ্যাত সন্ত্রাসী আরমান গ্রেপ্তার

নবাবগঞ্জে অমর একুশে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

১০

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবীতে নবাবগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি

১১

দোহারে ধানক্ষেতে মিলল যুবকের লাশ

১২

বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যান সংস্থার উদ্যোগে নবাবগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণা

১৩

নতুন বান্দুরায় প্রচারণায় ব্যস্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা

১৪

উচ্ছ্বাস-আনন্দে অনুষ্ঠিত হলো বান্দুরা হলিক্রস স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

১৫

নিখোঁজ মানসিক ভারসাম্যহীন সজিবের সন্ধান চায় পরিবার

১৬

কেরানীগঞ্জে অবৈধভাবে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি, তিনজনকে জরিমানা

১৭

কেরানীগঞ্জে ১২০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১৮

নবাবগঞ্জের বান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদে গণভোট সম্পর্কিত অবহিতকরণ সভা

১৯

জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস: খন্দকার আবু আশফাক

২০