একদিকে জ্বলন্ত চুলাই বড় বড় ডেকে রান্নায় ব্যস্ত পাচকরা। পাচকদের পাশাপাশি দম ফেলার সময় নেই তাদের সহযোগিদের। কেউ সবজি কাটছে, আবার কেউ চাল ও সবজি ধৌত কাজে ব্যস্ত। একাধারে রান্না করা হচ্ছে প্রায় ১০৫ মন চালের পোলাও। অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবীরা ব্যস্ত হাজার হাজার মানুষকে সেই খাবার পরিবেশনে। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মহাভোজের এমন মহোৎসব দেখা যায় ঢাকার নবাবগঞ্জের নতুন বান্দুরায়। শুক্রবার নতুন বান্দুরা হালদারপাড়া বারোয়ারী (বড়) কালি মন্দির আয়োজিত শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দের অষ্টকালীন লীলা কীর্ত্তন ও শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ অনুষ্ঠানে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, ১৬ বছর ধরে এমন আয়োজন চলছে রাধাগোবিন্দের অষ্টকালীন লীলা কীর্ত্তনে। প্রতিবছরই অনুষ্ঠানের শেষ দিন হাজার হাজার মানুষের আহারের আয়োজন করা হয়। যেখানে শুধু সনাতন ধর্মের মানুষ নয়, অংশগ্রহণ করেন মুসলমান ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষও। এছাড়া পাটিতে বসে ধনী গরিব সকল শ্রেণীর মানুষের একসাথে বসে খাওয়ার অন্যরকম এক দৃশ্য। যেখানে নেই কোন ভেদাভেদ নেই।
আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য সত্যরঞ্জন হালদার বলেন, এলাকাবাসীর সকলের সহযোগিতায় প্রতিবছরই আমরা এমন আয়োজন করি। যেখানে আমাদের পাশে থাকেন অন্য ধর্মের লোকজন। এবারও এর ব্যতয় হয়নি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মহাভোজের আয়োজনে এলাকার সব বয়সী মানুষ স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন। আমাদের গ্রামে হিন্দু মুসলমানের বাস। এছাড়া পাশ^বর্তী গ্রামগুলোতে খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজন রয়েছে। কিন্ত আমাদের সকলের মিলবন্ধন প্রশংসনীয়। একে অন্যের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এমন দৃশ্য বাংলাদেশে অন্য কোথাও পাবেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ বণিক বলেন, বান্দুরায় আমরা সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। আমি প্রতিবছরই মহাৎসবে আমাদের লীলা কীর্ত্তনসহ সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করি। আর আমাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন মুসলমানরা। এবারও এর ব্যতয় ঘটেনি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে যেমন আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেছি তেমনি ভোজ উৎসবে সকল ধর্মের মানুষ এসেছি। এধরনের মিলনমেলা আমাদের বন্ধনকে আরো দৃড় করে।
অনুষ্ঠান চলাচালিন উপস্থিত হন ঢাকা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। এসময় তিনি বলেন, দোহার নবাবগঞ্জে হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান সকলের সহাবস্থান। আপনাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেভাবে অন্য ধর্মের মানুষ সহযোগিতা করছে সত্যিই এটাই আমাদের সম্প্রীতির বাংলাদেশ। আমরা সবাই মিলে মিশে একটা সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সকলের বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে কোন সংখ্যালঘু শব্দ থাকবে না। ধর্ম ব্যবহার করে কেউ রাজনীতি করতে পারবে না। আমাদের সকলের ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতা আনতে হবে। তবেই এদেশ সকল ধর্মের জন্য নিরাপদ ভূমি হিসেবে গড়ে উঠবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কালীপদ মালো মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, বান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিল্লাল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তার, উপজেলা বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রুবেল, বান্দুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সজিবর রহমান, সাংগঠনিক মাদবর ফারুক, উপজেলা শ্রমিকদলের সিনিয়র সহসভাপতি আকতার মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মীর নাসির, শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ইমতিয়ার শামীম, বান্দুরা ইউনিয়ন মৎসজীবিদলেন সভাপতি সত্যরঞ্জন হালদার, সিনিয়র সহ সভাপতি মামুন ভূইয়া, বান্দুরা ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল মাদবর, সাধারণ সম্পাদক হিরু, যুবদল নেতা ইমতিয়াজ শাকিল, মামুন খান, শেখ নাহিদ, উপজেলা মহিলাদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিমা আক্তার, দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি সঞ্জয় সাহা, বান্দুরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন মিঠু, ছাত্রনেতা মো. সোহাগ, সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
শ্রী শ্রী রাধামাধব অঙ্গনে শান্তি ও মঙ্গল কামনায় ৭দিন ব্যাপী ১৬তম বার্ষিকী ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষ হয়।
মন্তব্য করুন