ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের একুশ দিন পর মা-মেয়ের অর্ধগলিত লাশ এক গৃহশিক্ষিকার ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি এম সাইফুল আলম জানান, উপজেলার কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি পঞ্চম তলা ভবনের ২য় তলার ভাড়া বাসা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন, ওই এলাকার আরেক ভাড়া বাসার বাসিন্দা মুহুরী শাহীন আহম্মেদের স্ত্রী রোকেয়া রহমান (৩২) ও তার মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪)।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে ওসি সাইফুল প্রিয় বাংলা নিউজ২৪ কে জানান, ওই ভাড়া বাসায় ছোট দুই বোন ও স্বামী নিয়ে থাকতেন গৃহশিক্ষিকা মিম। গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ফাতেমা ওই ভাড়া বাসায় মিমের কাছে পড়তে যায়। সময় পেরিয়ে গেলেও মেয়ে না ফেরায় মেয়েকে আনতে সেদিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হন মা রোকেয়া। এরপর থেকে তারা দুজনই নিখোঁজ ছিলেন।
অনেক খুঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে ২৭ ডিসেম্বর তাদের সন্ধান চেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মুহুরী শাহীন। এরপর ৬ জানুয়ারি একটি অপহরণ মামলা করেন তিনি বলেন ওসি।
প্রতিবেশীরা জানান, কয়েকদিন ধরেই ওই গৃহশিক্ষিকার ভাড়া বাসার ভেতর থেকে দুর্গন্ধ আসছিল। দুর্গন্ধ দিন দিন তীব্র হতে থাকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অসহ্য দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তারা ৯৯৯ এ কল করে বিষয়টি জানায়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ঘরে তল্লাশি করে খাটের নিচে রোকেয়া ও বাথরুমের ফল ছাদে ফাতেমার অর্ধগলিত লাশ পাওয়া উদ্ধার করে।
ওসি সাইফুল আরও জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফাতেমার গৃহশিক্ষিকাসহ তার স্বামী ও ছোট দুই বোনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তাদের থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গৃহশিক্ষিকা মিম ও তার ১৫ বছর বয়সী ছোট বোন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। তাই এই দুইজনকে এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়াও মিমের স্বামী ও ১১ বছর বয়সী আরেক বোনকে এখনও থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। মিমের স্বামীকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
লাশ দুটি উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন