ঢাকার নবাবগঞ্জে হঠাৎ করেই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দাম বাড়ার আগে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও দাম বাড়ার পরে উধাও হয়ে গেছে গ্যাসের সিলিন্ডারগুলো। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অতিরিক্ত দাম দিয়েও গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছেন না ক্রেতারা। তবে কিছু কিছু জায়গায় গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গেলও সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো দামে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
তবে খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দাম দিতে চাইলেও চাহিদা মোতাবেক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন না ডিলাররা। ফলে দোকানগুলোতে গ্যাস এলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
আকাশছোঁয়া দাম, উধাও সিলিন্ডার বাজার ঘুরে জানা যায়, সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাঁড়বে এমন সংবাদ প্রচার হওয়ার পরই দাম বেড়িয়ে দেন ডিলার। গত কয়েকদিন ১৮শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায় প্রতিটা সিলিন্ডার বিক্রি হলেও দাম বাড়ার সাথে সাথে সিলিন্ডারই উধাও হয়ে যায়।
বান্দুরার গৃহিনী নাসরীন আক্তার বলেন, গতকাল হঠাৎ গ্যাস ফুরিয়ে যায়। দোকানে দোকানে চেষ্টা করেও গ্যাস পাচ্ছি না। দুইদিন ধরে শীতের মধ্যে মাটির চুলাই রান্না করতে হচ্ছে। গ্যাসের দাম বাড়ার আগেই গ্যাসের সিন্ডিকেটরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। এখন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রির ধান্ধার করতাছে। সরকারের উচিত এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
একই এলাকার গৃহবধূ লিমা আক্তার বলেন, তিন চারদিন আগে ১৭শ টাকা দিয়ে গ্যাস কিনেছি। দেশে কোন কিছুর দাম বাড়ার আগেই বেড়ে যায়। আর কমার কথা থাকলে আর কমে না। আজব দেশে বাস করি আমরা। কবে যে দেশটা শৃঙ্খলায় ফিরবে বুঝতে পারছি না।
কয়েকজ চা দোকানদার বলেন, চা বিক্রি করে আর কয় টাকা লাভ। গ্যাসের এই অস্বাভাবিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দৈনন্দিন খরচ তুলতে পারছেন না, লোকসানে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে।
তবে নাম প্রকাশ না করলেও সিন্ডিকেটের কথা জানান খুচরা বিক্রেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা জানান, “ডিলারদের টাকা দিয়েও সিলিন্ডার পাচ্ছি না। তারা অল্প কিছু গ্যাস দিলেও সেটির দাম অনেক বেশি রাখছেন। ফলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।” এতে করে একদিকে তাদের যেমন ব্যবসা পরিচালনা করতে কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ক্রেতাদের অসন্তোষের মুখেও পড়তে হচ্ছে তাদের। তারা মনে করেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে তাদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। দ্রæত এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃত্রিম সংকট বন্ধ করা এবং বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
নবাবগঞ্জের গ্যাস ব্যবসায়ীরা জানান, নবাবগঞ্জের সবচেয়ে বড় গ্যাসের ডিলার আগলা বাজারে মেসার্স তাসনীম ট্রেডার্সের কর্ণধার আলী হোসেন ঝিলু। এ প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেই নবাবগঞ্জে গ্যাসের সিন্ডিকেট বন্ধ হয়ে যাবে। এব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
তবে এব্যাপারে মেসার্স তাসনীম ট্রেডার্সের মালিক আলী হোসেন ঝিলুকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
জানা যায়, চলতি জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা। গত মাসে (ডিসেম্বর ২০২৫) দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। অর্থাৎ, জানুয়ারিতে ১২ কেজিতে দাম বেড়েছে ৫৩ টাকা। গত মাসে দাম বেড়েছিল ৩৮ টাকা।
মন্তব্য করুন