ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের আওনায় একটি নিরব জনপদের মাঝেই নীরবে গড়ে উঠেছে কোরআনের আলোয় আলোকিত এক প্রতিষ্ঠান আবিদুন্নেছা শরীফ মাদরাসা ও এতিমখানা। ২০১০ সালে আলহাজ্ব মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এ মাদরাসাটি ১৫ বছর ধরে নিরলসভাবে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়েছে মাদরাসাটির পথচলা। ২০১২ সালে তিনতলা ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বীনি শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলমান, যা প্রতিষ্ঠানটির ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রার সাক্ষ্য বহন করছে।
শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশের কারণে আজ শুধু স্থানীয় নয়, বরং দূর-দূরান্ত থেকেও শিক্ষার্থীরা এসে ভর্তি হচ্ছে এখানে। নূরানী পদ্ধতিতে প্লে থেকে তৃতীয় শ্রেণি, ঊর্দু খানা থেকে তাইসির জামাত পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান করা হয়। আগামী শিক্ষাবর্ষে মিজান জামাত চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
মাদরাসাটির আরেকটি বড় গর্ব আন্তর্জাতিক মানের নাজেরা ও হেফজ বিভাগ। বর্তমানে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়নরত। তাঁদের পাঠদানে নিয়োজিত আছেন ১০ জন অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক, পাশাপাশি রয়েছে ২ জন কর্মচারী। প্রতি বছর এখান থেকে ৭ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী হিফজ সম্পন্ন করে হাফেজে কোরআন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। অন্যান্য বিভাগ থেকেও ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছে।
শুধু পাঠ্য শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের সুস্থ শরীর ও সুন্দর মন গঠনের দিকেও রয়েছে বিশেষ নজর। মাদরাসা প্রাঙ্গণে গড়ে তোলা হয়েছে ফল ও সবজির বাগান, রয়েছে মাছ চাষের সুব্যবস্থা। দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান শিক্ষার্থীদের মন জুড়িয়ে দেয়। শরীরচর্চার জন্য রয়েছে খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ।
মাদরাসার পরিচালক আলহাজ্ব মাওলানা ইয়ামিন সাহেব বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কোরআনের আলোয় আদর্শ মানুষ তৈরি করা, যারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।”
মুহতামিম মাওলানা ইকবাল হোসেন সাহেব জানান, “শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও ইলম এই তিনটির সমন্বয়েই আমরা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”
হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ নাজমুল হোসেন বলেন, “এই মাদরাসার পরিবেশ ও শিক্ষকদের আন্তরিকতায় শিক্ষকদের হিফজ সম্পন্ন করতে অনেক সহায়তা করেছে।”
প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান শুধু একটি মাদরাসা নয়, এটি একটি আমানত। আল্লাহর রহমতে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।”
স্থানীয় এলাকাবাসীর মতে, আবিদুন্নেছা শরীফ মাদরাসা ও এতিমখানা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় এটি কোরআনের আলোয় আলোকিত একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার নিরব বিপ্লব।
মন্তব্য করুন