ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার চকোরিয়া গ্রামের বাসিন্দা আক্কাস মাহমুদ। একসময় প্রবাসে কাজ করে পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দেই ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর জীবনের সব হিসাব বদলে যায়। চিকিৎসা ও সংসারের খরচ সামলাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার তখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ডুবে যায়।
ঠিক সেই সময় তার পাশে দাঁড়ায় সততা ফাউন্ডেশন। তাকে স্বাবলম্বী করার জন্য দেওয়া হয়েছে “সততা স্টোর” নামে একটি ছোট মুদির দোকান।চক সিংহড়া গ্রামের চৌরাস্তা মোড়ে তার দোকানে মুদি পণ্যের পাশাপাশি চা বিক্রি করা হবে। শুক্রবার জুম্মা নামাজের পর উদ্বোধন করা হয়েছে সততা ফাউন্ডেশনের স্বাবলম্বী ১৩ নম্বও প্রকল্প। এই ছোট দোকানটিই এখন তার পরিবারের নতুন আশার আলো।
সংগঠনের সদস্য ও প্রবাসীদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সহযোগিতায় আজ নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন আক্কাস মাহমুদ। তার পরিবারের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মাঝেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এব্যাপারে আক্কাস মাহমুদ বলেন, চিকিৎসা করতে করতে আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি। চিন্তিত ছিলাম কিভাবে সংসার চলবে। আজ পরিবার নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছি। সততার ফাউন্ডেশনের এ উপহার কখনো ভুলতে পারবো না। তারা শুধু আমাকে না, আমার পরিবারের দুঃশ্চিনা দূর করলো।
শুধু একটি পরিবার নয়, চলতি রমজান মাসেও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে সততা ফাউন্ডেশন। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি পরিবারের মাঝে রোজা ও ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ২০০টি পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণের প্রস্ততি চলছে।
জানা যায়, “থাকবে না হারানোর ভয়, সততাই করবে জয়” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৯ সাল থেকে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নে নিরবে মানবিক কাজ করে যাচ্ছে সামাজিক সংগঠন সততা ফাউন্ডেশন। প্রবাসী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ছাত্রছাত্রী এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা মানবিক মানুষদের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে এই অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। তাদের মূল লক্ষ্য শুধু সাহায্য নয়, বরং অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা।
রমজান মাস এলেই সততা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা ছুটে যান দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায়। রমজানের বাজার, ঈদের বাজার ও ঈদের কাপড়ের পাশাপাশি হুইলচেয়ার, রিকশা, সেলাই মেশিন, ছাগল ও গরু দিয়ে অনেক পরিবারকে নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তারা। সততা ফাউন্ডেশনের এই মানবিক উদ্যোগে সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীদের আরও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন