PRIYOBANGLANEWS24
৪ জুন ২০২০, ৪:১৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

করোনায় যেভাবে বেঁচে আছেন দোহার-নবাবগঞ্জের নদীভাঙা মানুষগুলো

কয়েকবছর আগে পদ্মা নদীর প্রবল ভাঙনের শিকার হয়ে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারায় দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের অরঙ্গাবাদ ও নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চারাখালী এলাকার শত শত পরিবার। জীবন ও জীবিকার তাগিয়ে নদী ভাঙন মানুষগুলো নতুন করে ঘর সংসার শুরু করতে অনেকেই অন্যত্র চলে যান। কিন্তু যাদের সহায় সম্বল বলতে কিছুই ছিল না তারা নিরুপায় হয়ে আশ্রয় নেয় কাঁশিয়াখালী বেঁরিবাধের রাস্তার পাশে কল্যানশ্রী এলাকায়। এমন পরিবারের সংখ্যা একেবারে কমও নয়। ২ থেকে ৩’ শতাধিক পরিবারের বসতি গড়ে উঠেছে এখানে। আর এরমধ্যে রাস্তার পাড়ে বসতি গড়ে উঠেছে অন্তত ৫০টি পরিবারের।

রাস্তাঘেষেই সারিবদ্ধভাবে তোলা হয়েছে ঘরগুলো। এসব পরিবারের সদস্যরা কেউ দিনমজুর, কেউ ফেরি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করে আবার কেউ স্কুলে আচার-ঝালমুড়ি ও কেউ কেউ ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ও চলমান লকডাউনের কারনে থমকে গেছে এদের জীবন জীবিকা। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে এখানকার মানুষেরা। দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করা কল্যানশ্রী এলাকার মানুষেরা কর্মহীন হয়ে নিদারুণ কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। অনেকের ঘরেই খাবার নেই। খেয়ে না খেয়ে কাটছে তাদের জীবন। দুটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সবার নজরে আসে না মানুষের দুঃখ দুর্দশার চিত্র। যে কারনে সামাজিক সংগঠন কিংবা সরকারী সহযেগিতা আওতায় আসে না।

করোনার দূর্যোগে সরকার প্রতিটি এলাকায় খাদ্য সহায়তা কর্মসূচীর মাধ্যমে কর্মহীনদের খাবারের ব্যবস্থা করলেও তা পাচ্ছে না তারা। তাদের অভিযোগ, এখানকার বাসিন্দারা যে কোন দুর্যোগে স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যহৃত হওয়ার পরও কোন ধরনের সহযোগিতা পায় না। সবসময়ই অবহেলিত নদী পাড়ের মানুষেরা। চাতক পাখির মতো আকাশের পানে তাকিয়ে থাকলেও মিলে না সেই কাঙ্খিক বস্তুর দেখা।

নয়াবাড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অরঙ্গবাদ এলাকার বাসিন্দার নির্বাচিত ইউপি সদস্য ইয়ার আলীর খাদ্য সহযেগিতার কথা স্বীকার করলেও জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১ ও ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য কর্তৃক কোন ধরনের সুবিধা পায়নি বলে তারা অভিযোগ করেন। ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মাবল শেখের বিরোদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। করোনা দূর্যোগে সরকারের একাধিক বরাদ্দ আসলে এখানকার বাসিন্দারা কোনোটাই পাননি বলে জানান তারা।

এ ব্যাপারে কল্যানশ্রী এলাকার কিতাব আলী নামের এক ব্যক্তি জানান, করোনার কারনে কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে আছি। আমরা কী অবস্থায় আছি এ ব্যাপারে কোন খোঁজ খবরই নেয়নি জনপ্রতিনিধিরা।

জয়কৃষ্ণপুরের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ষাটোর্দ্ধ মরিয়ম নামের এক নারী অভিযোগ করে বলেন, আমার ঘরে খাবার নেই । অনেক কষ্ট করে দিন চলে কিন্তু এখানো পর্যন্ত কেউই খবর নেয়নি।

এ ব্যাপারে জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারের খাদ্য কর্মসূচির খাদ্য আমরা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতরণ করেছি। যদি কেউ না পেয়ে থাকে তাহলে আমরা তাদের পরবর্তীতে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।

এখানকার মানুষেরা জানান, করোনামুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারলে এ ধরনের সহযোগিতার মুখাপেক্ষী হতে হবে তাদের। করেনা থেকে মুক্তি পেলে প্রত্যেকে কর্মের মাধ্যমে জীবিকার সন্ধানে তারা ঘর থেকে বের হবেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নবাবগঞ্জে বিএনপি নেতা ও তার শাশুড়িকে কুপিয়ে জখম

নবাবগঞ্জের পাঁচ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন, প্রায় ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি

আওয়ামী আমলের প্রভাব খাটানো ইউএনও আলমগীর এখন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের উপসচিব!

দোহারে ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি

দোহারে চার ডাকাত আটক, ধারালো অস্ত্র উদ্ধার

কবরস্থানে বসে মাদকের জলসা!

নবাবগঞ্জে অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী উপহার

নবাবগঞ্জে কৃষি জমির মাটি কাটায় চারজনকে অর্থদণ্ড ও একজনকে কারাদণ্ড

বের হয়েছিলেন মোবাইলে কথা বলতে, লাশ মিলল বাড়ির পাশে!

নবাবগঞ্জে কৃষি জমির মাটি কাটার অপরাধে জরিমানা

১০

নবাবগঞ্জে ২২০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১, পলাতক ৩

১১

নবাবগঞ্জে বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত

১২

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর সঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়া হলো না অমিতের

১৩

এ যেন দোহার-নবাবগঞ্জের মেধাবীদের মিলনমেলা

১৪

দোহারে মাদক নিয়ে বিরোধে জেরে যুবককে কুপিয়ে জখম

১৫

স্ট্রোকে সব হারিয়ে দিশেহারা আক্কাস, পাশে দাঁড়াল সততা ফাউন্ডেশন

১৬

দোহারে পেশাদার তিন চোর গ্রেপ্তার

১৭

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২এর গ্রাহকের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া বোর্ড গঠনের উদ্যোগ, রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতের আবেদন

১৮

নবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় সবজি ব্যবসায়ী নিহত

১৯

এনএম নূরানী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট: নতুন বান্দুরা মুসলিম যুব সংঘ চ্যাম্পিয়ন

২০