কবরস্থানের মতো পবিত্র জায়গায় সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদকসেবন! শুনতে কিছুটা অবাক লাগলেও বাস্তব চিত্র এমনই। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়নের মিয়াহাঁটি গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে সন্ধ্যার থেকে সারারাত চলে মাদকের জলসা।
শুধু কবরস্থানে নয়, কবরস্থানের পাশের নিচু জায়গায়, শহীদের পরিত্যক্ত খামার, কৃষি জমির পাশের উচু ভিটায় ও একটি পরিত্যক্ত বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক মাদক ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের আড্ডা। গ্রামের অল্প বয়সী কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ ও যুবকরা কোনো না কোনোভাবে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত পুরো এলাকাবাসী।
মিয়াহাঁটি গ্রামবাসী জানান, রাত হলেই মোটরসাইকেল নিয়ে আসা মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়ে যায় এলাকায়। গভীররাত পর্যন্ত চলে তাদের কার্যক্রম। এলাকার মাদকসেবীদের সঙ্গে আশেপাশের এলাকার মাদকসেবীরা একত্রিত হয়ে পুরো এলাকায় কায়েম করেছে মাদকের রাজত্ব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক মুরব্বি বলেন, সন্ধ্যা শেষে একটু অন্ধকার হলেই কবরস্থানের মতো পবিত্র জায়গায় মাদকসেবীরা আড্ডা বসিয়ে গভীররাত পর্যন্ত করে মাদকসেবন। কবরস্থানের লাইট জ্বালানো থাকলে সেটিও ভেঙে ফেলাসহ কখনও কখনও খুলেও নিয়ে যায় মাদকসেবীরা। এছাড়া গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির টিউরওয়েল ও মোটরও চুরি হচ্ছে অনবরত। মাদকের কারনে মিয়াহাঁটি গ্রামে বেড়েছে ছ্যাচড়া চোরের উৎপাত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের আমল থেকে এলাকায় মাদকের বিস্তার লাভ করেছে। তখন একটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে যায় মাদক। ওদের কিছু বলা যায় না। বললেই জোট হয়ে মারতে আসে। পুলিশ জানালেও পদক্ষেপ নেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আওয়ামী লীগের সময় আসামী ধরতো আবার কিছুক্ষণ পর টাকার বিনিময়ে ছেড়েও দিত। এখনো পুলিশ সুযোগ পেলে এ কাজই করে। তবে ভয়ে এলাকাবাসী কিছু বলতে সাহস পায় না। এ থেকে পরিত্রাণ চায় তারা।
শুধু গালিমপুরের মিয়াহাঁটি গ্রাম নয় আশেপাশের আন্ধারকোঠা ও নোয়াদ্দা গ্রামসহ নবাবগঞ্জের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে মাদকের ব্যাপক বিস্তার। উপজেলা ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এখন মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা।
ইতোমধ্যে ঢাকা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির সাথে কোন আপস নয়। দোহার নবাবগঞ্জে কোন অপরাধীর ঠাই হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনের নিজে উপস্থিত থেকে প্রতিটি মাদকের স্পট ভেঙে দেওয়ার কথা জানান তিনি।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি যোগদানের পর প্রতিনিয়ত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের আইনের আওত্বায় আনা হচ্ছে। মাদকসগ সকল ধরনের অপরাধ নির্মূলে পুলিশ বদ্ধপরিকর। টাকার বিনিময়ে আসামী ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এটার সুযোগ নেই। কোন অফিসার এধরনের কাজে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের কোন অভিযোগ তিনি পাননি।
মন্তব্য করুন