PRIYOBANGLANEWS24
২০ অগাস্ট ২০২২, ৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

চামড়া নিয়ে বিপাকে নবাবগঞ্জের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নবাবগঞ্জের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। ঈদের পর এক মাস চলে গেলেও এখনও কেনা চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে চামড়ার ক্রয়মূল্যের সঙ্গে বাড়তি খরচ হিসেবে যোগ হচ্ছে শ্রমিক খরচ, বিদ্যুৎ বিল ও ঘরভাড়া।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া ও জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় চামড়া কিনে স্তুপ করে রাখছেন। সেখানে প্রতিদিনই লবণজাত করা হচ্ছে। তবে বিক্রি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে কেনার সাড়া না পাওয়ায় শঙ্কা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। যতো বেশি দিন তাদের কাছে চামড়া থাকবে, চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও ততো বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে প্রতিটি চামড়া প্রস্তুত করতে হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি করতে হচ্ছে লোকসানে। গত ৫ বছর ধরেই লাভের আশায় ব্যবসা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

শিকারীপাড়া ইউনিয়নের হাগ্রাদি গ্রামের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী হরিদাস চন্দ্র বলেন, ‘গ্রাম গঞ্জে চামড়ার সরকারি রেট আছে ৪০-৪৫ টাকা। আমরা ওই দামেই বিক্রি করতে চাই। কিন্তু ট্যানারী মালিকরা নগদ টাকায় কিনতে আসে না। মহাজন তো টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। এ দিকে আমরা বাকিতেও বিক্রি করতে পারছি না। প্রতিটি চামড়া সব মিলিয়ে ১০০০ টাকা খরচ পড়ে। আর চামড়া বিক্রি করতে গেলে ৭০০ টাকা দাম উঠে। চামড়া প্রতি ৩০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবুও বিক্রি করতে গেলে ক্রেতা পাচ্ছি না। সরকারিভাবে বিক্রির ব্যবস্থা হলে লোকসান গুনতে হবে না।’

তারা প্রতিটি চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে কিনেছেন। লবণ ও শ্রমিক খরচ যোগ করে যার মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০০০ টাকা। ট্যানারি মালিকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে তাদের কাছ থেকে চামড়া কিনলে তাদের প্রতি চামড়ায় লাভ হবে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। কিন্তু ঢাকার ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে সাড়া না পাওয়ায় কয়েক লাখ টাকার অবিক্রিত চামড়া নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। তাদের আশঙ্কা, যথা সময়ে চামড়া বিক্রি করতে না পারলে সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে মান কমে যাবে তাদের চামড়ার। মানহীন সেই চামড়া কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হলে লোকসানে পড়বেন তারা।

কাঁলা চান নামের এক চামড়া ব্যবসায়ী জানান, ‘গত ৫ বছর ধরে চামড়ার ব্যবসা করতেছি। এই বছরের মতো এতো কম দামে কখনো বিক্রি করি নাই। ক্রেতা না থাকায় লোকসানে বিক্রি করছি। কিছু চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। আর লবনের দামও বাড়তি। সব মিলিয়ে এ ব্যবসায় আর টিকে থাকতে পারছি না।’

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০০১ ব্যাচের উদ্যোগে মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও ভর্তি সহায়তা প্রদান

স্থানীয় অনুদানে শীতার্ত শ্রমজীবি শিশু ও তাদের পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ

নবাবগঞ্জে বিপুল পরিমান চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার ৪

শিলাকোঠায় শহীদ ওসমান হাদির মাগফেরাত কামনায় দোয়া

নবাবগঞ্জে ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার ২

নবাবগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডারের চরম সংকট, বিপাকে সাধারণ মানুষ

নবাবগঞ্জে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল

নবাবগঞ্জে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল

বেগম জিয়ার মৃত্যুতে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের শোক

১৫ বছর ধরে দ্বীনি শিক্ষা ছড়িয়ে যাচ্ছে আবিদুন্নেছা শরীফ মাদরাসা ও এতিমখানা

১০

নবাবগঞ্জে মিনি ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

১১

স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত ছিল এয়ারপোর্ট টু তিনশ ফিট সংবর্ধনা স্থল

১২

দোহারে নয়াবাজার কাগজ ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ

১৩

নবাবগঞ্জে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর রুহের মাগফেরাত কামনায় জামায়াতের দোয়া মাহফিল

১৪

নবাবগঞ্জ ও দোহারে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বড়দিন

১৫

একই মঞ্চে আশফাক- মেহনাজ, উৎফুল্ল নেতাকর্মীরা

১৬

নবাবগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা রতন গ্রেপ্তার

১৭

সন্ত্রাসীদের গুলিতে জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদি’র প্রাণ হারানোর ঘটনায় ডিআরই ‘র শোক

১৮

নবাবগঞ্জে মাসুদ রানা মজনু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

১৯

বিজয় দিবস উপলক্ষে দোহার নবাবগঞ্জ ফ্রেন্ডস টুগেদার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

২০