ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মৈনটঘাট। ঘাটের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ও পদ্মার পাড় ঘেঁষা বিস্তীর্ণ বালুচরের কারণে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। পরিবার পরিজন নিয়ে প্রতি শুক্রবারই হাজার হাজার দর্শনার্থী প্রকৃতির টানে ছুটে আসেন মৈনটঘাটে। শুধু দোহার নবাবগঞ্জ নয়, আশেপাশে জেলাসহ রাজধানী থেকেই প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের টানে ছুটে আসেন মিনি কক্সবাজার পদ্মার পাড়ে।
তবে অনেকে মনে প্রশ্ন রয়েছে, কিভাবে মৈনটঘাটের নাম মিনিকক্সবাজার নামে পরিচিতি পেলেন। বিভিন্ন তথ্য অনুসারে জানা যায়, স্থানীয় আবুল হাসেম ফকির নামে এক গণমাধ্যম কর্মী এই স্থানটিকে “মিনি কক্সবাজার” নামে অভিহিত করেন, যা দ্রæত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
২০০৫ সালে পদ্মা পাড়ের মৈনটঘাটে এসে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আবুল হাসেম ফকির নামকরন করেন মিনি কক্সবাজার। তখন তার সাথে থাকা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাফর ইকবাল লাভলু ও মরহুম মালেক দোহারী নামকরণে সমর্থন করেছিল। ধীরে ধীরে লোকমুখে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে মিনিকক্সবাজার খ্যাত মৈনটঘাটের নাম।
এব্যাপারে সাংবাদিব আবুল হাসেম ফকির বলেন, এক সময় প্রায়ই আমার মৈনট ঘাটে চায়ের আড্ডায় মিলিত হতাম। একদিন আমরা তিন বন্ধু জাফর ইকবাল লাভলু ও মরহুম মালেক দোহারি মৈনট ঘাটে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় আমার মাথায় আসলো মৈনটঘাট ঘটের নাম বলে মিনি কক্সবাজার। ধীরে ধীরে নাম ছড়িয়ে পড়লে দর্শনার্থীরা ভিড় করতে থাকেন মৈনট এলাকা। আজ সত্যি সত্যিই মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট এলাকা সমাদৃত হয়েছে। পদ্মার নীল জলরাশি, বির্স্তীণ বালুর সৈকত নিয়ে গড়ে উঠেছে এক অনন্য স্থান।
তিনি আরো বলেন, প্রকৃতি প্রতিনিয়ত আমাদেরকে ডাকে। আমরা দেখি। মুগ্ধ হই। বারবার মুগ্ধ হই। যাই হোক, আমি বলতে চাচ্ছি আমাদের মৈনট ঘাটের কথা। যেখানে আপনি আসলে মুগ্ধ হবেন। তাকিয়ে থাকবেন পদ্মা নদীর অপরূপ জলরাশির দিকে। এই বিশাল জলরাশি, পদ্মায় হেলেদুলে ভেসে বেড়ানো জেলেদের নৌকা দেখা আর পদ্মার তীরে হেটে বেড়ানো, সব মিলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য আপনার মনে হবে আপনি এখন ঢাকার দোহারে নয়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আছেন।
মন্তব্য করুন