1. news@priyobanglanews24.com : PRIYOBANGLANEWS24 :
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

কাঠে ফুল ফুটিয়ে সংসার চলে দারুশিল্পীদের

শামীম হোসেন সামন, নবাবগঞ্জ
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১
  • ২১০ বার দেখা হয়েছে।

দারুশিল্পীরা মনের মাধুরী মিশিয়ে শুকনো কাঠের উপরে খোদাই করে ফুলের নকশা করেন। আর এই ফুল ফোটানোর মধ্য দিয়ে চলে তাদের জীবন সংসার। প্রত্যাহিক জীবনে ব্যবহৃত খাট-পালঙ্ক, শোভা আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, কাঠের সিঁড়ি, শো-কেচসহ গৃহের আসবাবপত্র এবং কাঠের খুটির মধ্যে খোদাই করে নকশার ব্যবহার দেখা যায়। গ্রামবাংলার এসব নকশা শিল্পীরা দেশের সাথে বিদেশী নকশার সম্মিলন ঘটিয়েছে। এতে নতুন আসবাবপত্রে নকশার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে তাদের কাজ কমে গেছে। নকশা শিল্পীদের জীবনেও নেমে এসেছে হতাশা।

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বাজারে বাজারে ফার্নিচারের দোকান গড়ে উঠেছে। আর এতেই অনেকের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। কাঠের উপর নকশা করে চলছে দারুশিল্পীদের সংসার। প্লাস্টিকের পন্য বাজার দখলে থাকলেও কাঠের ফার্নিচারের চাহিদা এখনো কমেনি। কাঠের তৈরি জিনিসপত্রের সৌন্দর্যের কারনে আজও নতুন নতুন কাঠের ফার্নিচারের চাহিদা বাড়ছে। তবে নকশা শিল্পীদের চাহিদা বাড়েনি আধুনিক যন্ত্রপাতির কারনে।

উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পানিকাউর গ্রামের নকশা কারিগর ধীরেন সরকার। অভাবের সংসারে খুব ছোটবেলা থেকে নকশার কাজের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ৩৫ বছর ধরে নকশার কাজ করেন। নকশার কাজ করেই পরিবারের ৫ সদস্যের সংসার চলে তার। প্রতিদিন ৬০০ টাকা মজুরিতে নকশা করে দেন। তার মতো অনেকেই কাঠের উপর ফুল করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

উপজেলার বান্দুরা, বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন নতুন ফার্নিচারের দোকান গড়ে উঠেছে। এতে নকশা শিল্পীদের চাহিদা তেমন বাড়েনি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় নকশায় এসেছে পরিবর্তন। বিভিন্ন রকমের নকশা তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে।

জানা গেছে, নকশার কাজ ভালো ভাবে আয়ত্ত করতে একজন নকশার মিস্ত্রির ৫-৬ বছর লাগে। একজন নকশা মিস্ত্রি পরিপূর্ণ হওয়ার পর বেতন পান ১৮-১৯ হাজার টাকা। আর অর্ধেক মিস্ত্রিরা বেতন পায় ৮-৯ হাজার টাকায়। তবে নকশার কাজেও আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে নকশা। আর সেই সাথে নকশারও পরিবর্তন ঘটেছে।

একাধিক দারুশিল্পী জানান, এক সময় তাদের হাতের কাজের খুব কদর ছিল। কিন্ত আধুনিক যন্ত্রপাতির কারনে কাজ এখন সহজ হয়ে গেছে। তবে সৌখিন ব্যক্তিরা এখনও আসবাবপত্রে হাতের কারুকাজ করতে পছন্দ করেন। তবে করোনার প্রভাবে এখন বিয়ে হয় না বললেই চলে। তাই কাজও কমে গেছে। এতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দারুশিল্পীদের।

এখান থেকে আপনার সোস্যাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

ক্যাটাগরির আরো খবর
© এই ওয়েবসাইটি প্রিয়বাংলা২৪নিউজ.কম দ্বারা সংরক্ষিত।
পিবি লিংক এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান